
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ১৩৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে তারা।
রাজশাহীর দেওয়া ১৩৪ রানের লক্ষ্য ৩ বল আর ৬ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় চট্টগ্রাম। ৯ বলে অপরাজিত ১৯ রানের ইনিংসে চট্টগ্রামকে ফাইনালে তুলেছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। তবে শুরুটা ছিল বেশ ধীরগতির। পাওয়ার প্লেতে তারা তুলতে পারে মাত্র ৩৭ রান।
ব্যক্তিগত ২১ রানে ফারহানকে ফিরিয়ে চট্টগ্রামকে ব্রেকথ্রু এনে দেন তানভীর ইসলাম। এরপরই ধস নামে রাজশাহীর ব্যাটিং লাইন-আপে। তানজিদ একপ্রান্ত আগলে রাখলেও অন্যপ্রান্তে ছিল আসা-যাওয়ার মিছিল। শেষদিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের ৩২ রানের ইনিংসে ১৩৩ রানের পুঁজি পায় রাজশাহী।
সহজ লক্ষ্য তাড়ায় ৬১ রানে উদ্বোধনী জুটিতে জয়ের ভিত গড়ে দেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার নাঈম শেখ ও মির্জা বেগ। ব্যক্তিগত ৩০ রানে নাঈম ফিরলে ভাঙে সে জুটি। এরপর হাসান নওয়াজ ও আসিফ আলি দ্রুত ফিরে গেলে জমে উঠে ম্যাচ। তবে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে ফাইনালে তুলেই মাঠ ছাড়েন শেখ মেহেদী।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহীর শুরুটাও ছিল মন্থর।। ব্যাটিং করা খুব একটা সহজ ছিল না ব্যাটসম্যানদের জন্য। চট্টগ্রাম রয়্যালসের বোলারদের সামনে একা লড়াই করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। তবে শেষ পর্যন্ত রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। শেষদিকে তার ১৫ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করেই ১৩৩ রানে অলআউট হয় রাজশাহী।
উদ্বোধনী জুটিতে শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ তামিম যোগ করেন ৩০ রান। ১৯ বলে ২১ রান করা ফারহানকে ফিরিয়ে দেন তানভীর ইসলাম। এরপর দলীয় ৪৯ রানে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (১১ বলে ৮ রান), শেখ মেহেদীর বলে বোল্ড হয়ে। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন। আকবর আলী খেলেন অত্যন্ত ধীরগতিতে—১০ বলে মাত্র ৩ রান করে মুকিদুল ইসলামের বলে ক্যাচ দেন।
এক প্রান্ত আগলে রাখা তানজিদ তামিমও শেষ পর্যন্ত বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তিনি ৩৭ বলে ৪১ রান করে হাসান নাওয়াজের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর দ্রুত ফিরে যান জেমস নিশাম (৯ বলে ৬ রান) ও রায়ান বার্ল। এক পর্যায়ে ৯৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে যায় রাজশাহী।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে ঝলক দেখান আব্দুল গাফফার সাকলাইন। শেষদিকে তার ১৫ বলে ৩২ রানের ইনিংসই রাজশাহীকে দেড়শর কাছাকাছি পৌঁছানোর আশা দেখায়। তবে ইনিংসের শেষ ওভারে দ্রুত উইকেট পড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত ১৩৩ রানে অলআউট হয় দলটি। এর ফলে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সামনে জয়ের জন্য ১৩৪ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে শেখ মেহেদী ও আমের জামাল নেন ২টি করে উইকেট। এছাড়া শরিফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম, তানভীর ইসলাম, মির্জা বেগ ও হাসান নাওয়াজ নেন ১টি করে উইকেট।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রামের শুরুটা ধীর গতির হলেও ওপেনিং জুটিতে মির্জা বেগ আর কোটি টাকার নাঈম শেখ তুলেন ৬৪ রান। ৩৮ বলে ৩০ রান করে নাঈম ফিরলে ভাঙগে জুটি। চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ রানের ইনিংস খেলেছেন মির্জা বেগ। হাছান নওয়াজ ২০ আর আসিফ আলি ১১ রান করে ফিরলেও জয় তুলে মাঠ থেকে উঠেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী।
এই জয়ে চট্টগ্রাম ফাইনালে উঠলেও এখনই বাদ পড়ছে না রাজশাহী। এই হারের পরও ফাইনালে ওঠার আরেকটি সুযোগ পাচ্ছে রাজশাহী । বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেটের বিপক্ষে লড়বে নাজমুল হোসেন শান্তর দল
মন্তব্য করুন