
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নাদিরা আক্তারের নির্বাচনি উঠান বৈঠকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আক্তার হোসেন।
এই বৈঠকে বিপুল সংখ্যক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন জানান। এসময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন তারা।
পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হেমায়েত হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তারের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের প্রভাবশালী নেতারা। বৈঠকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা দলীয় কোন্দল ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নাদিরা আক্তারকে বিজয়ী করার ঘোষণাও দেন।
একই মঞ্চে বিএনপি প্রার্থীর উপস্থিতি ও বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এ ঘটনায় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।

বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নাদিরা আক্তার বলেন, “আমাদের আগামীর রাষ্ট্রনায়ক, আমাদের দলের চেয়ারম্যান বলেছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। তাই আমরা বলব সবার আগে শিবচর। এর কারণ প্রতিটি গ্রাম উপজেলা জেলা নিয়ে বাংলাদেশ। তাই আমরা ঠিক করেছি সবার আগে শিবচর। আমরা এক ও ঐক্যবদ্ধভাবে চলব। ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপিকে বিজয়ী করে আনতে হবে। ঐক্যবদ্ধ না থাকলে আমাদের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারব না।”
বিএনপি প্রার্থী আরো বলেন, “আগামীতে কারো নামে কোনো মিথ্যা মামলা থাকবে না। নির্বাচনের পর আপনাদের কোনো অযথা হয়রানি করা হবে না। আমরা সবাই এক ও ঐক্যবদ্ধ। আমরা এক ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে শিবচরকে আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলতে কঠিন হবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে শিবচরকে গড়ব।”
মাদারীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান বলেন, “এ অঞ্চলে আওয়ামী ভোট রয়েছে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও ভোট তো বাদ হয়নি। ফলে যারা ভালো রাজনীতি করেছে, তারা মাঠে থাকলে দোষ হবে কেন?”
বৈঠকের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল শিবচর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেন খানের বক্তব্য।
আক্তার হোসেন বলেন, ‘আমরা ধানের শীষে ভোট দিয়ে নাদিরা আপাকে জয়যুক্ত করব। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। ’
তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিন মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। বক্তব্যের শুরু ও শেষে তিনি বেশ জোরালোভাবে জয় বাংলা কমা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেন এবং পরক্ষণেই উপস্থিত সবার কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। তাঁর এই দ্বিমুখী অবস্থানের সময় বিএনপির স্থানীয় নেতাদের হাসিমুখে সমর্থন দিতে দেখা গেছে।
আওয়ামী লীগের এসব নেতার দাবি, তাঁরা সাবেক চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটনের নির্দেশে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে সমর্থন জানাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের এমন প্রচারকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন