
মানুষের সব চেষ্টা যখন ব্যর্থ হয়, তখন একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা ও দোয়াই হলো মুক্তির পথ। এ ঘটনায় নবীজি (সা.)-এর একটি হাদিসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাহলো—
হজরত আব্দুল্লাহ বিন আববাস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (স) আমাকে কিছু মূল্যবান বাণী শুনিয়েছেন যার কিয়দাংশ নিম্নরূপ— ‘কিছু চাইলে তা একমাত্র আল্লাহ তাআলার কাছেই চাইবে। কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা একমাত্র আল্লাহ তাআলার কাছেই কামনা করবে। জেনে রেখো, পুরো বিশ্ববাসী একত্রিত হয়েও যদি তোমার কোন কল্যাণ করতে চায় তাহলে তারা ততটুকুই কল্যাণ করতে পারবে যা তোমার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। আর তারা সকল একত্রিত হয়েও যদি তোমার কোন ক্ষতি করতে চায় তাহলে তারা ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যা তোমার জন্য বরাদ্দ রয়েছে।’
তাই অসহায় অবস্থায় আমরা কুরআনুল কারিমের একটি দোয়া করতে পারি। যেখানে বান্দার ক্ষমতা শেষ, সেখানে মাওলার দয়া শুরু। অসহায়ের সহায় হতে পারে দোয়াটি— কেননা ব্যর্থতার মুহূর্তে এটি ছিল হজরত নুহ (আ.)-এর দোয়া। তিনি দীর্ঘদিন মানুষকে দাওয়াত দিয়েছিলেন। উপহাস, প্রত্যাখ্যান আর নিরন্তর ব্যর্থতার পর অবশেষে তিনি আল্লাহর দরবারে শুধু এটুকুই বলেছিলেন—
رَبِّ أَنِّي مَغْلُوبٌ فَانْتَصِرْ
উচ্চারণ: ‘রাব্বি আন্নি মাগলুবুন ফানতাসির’
অর্থ: ‘হে আমার রব! আমি সম্পূর্ণ পরাভূত— আপনি আমাকে সাহায্য করুন।’ (সুরা আল-কামার: আয়াত ১০)

এ দোয়ায় কোনো অভিযোগ নেই, কোনো দীর্ঘ বাক্য নেই— আছে শুধু অসহায় স্বীকারোক্তি আর আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা।
মন্তব্য করুন