
শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু করেছেন গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাবিবুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণা শুরু করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে হাবিবুর রহমান টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গওহরডাঙ্গা খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর কবর জিয়ারত করেন। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে কবর জিয়ারতের জন্য যান। তবে গেট বন্ধ ছিল। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রশাসনের অনুমতি না পেয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের ৩ নম্বর গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করেন তিনি। সেখান থেকেই তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ফুটবল নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন।
পরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বর ও পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গণসংযোগ করেন হাবিবুর রহমান। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ভোট ও সমর্থন চান।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনের মাটিতেই শায়িত আছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আলেম সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী। এই দুই মহামানবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই আমি আমার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। আর প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের ভেতরে গিয়ে তাঁর কবর জিয়ারত করতে পারিনি। তাই গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেছি।’
রাজনৈতিক অতীত প্রসঙ্গে হাবিব বলেন, ‘একসময় আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। টুঙ্গিপাড়া ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি এবং জেলা বিএনপির সদস্যও ছিলাম। তবে আমি অনেক আগেই বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব বরাবর আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’
দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে হাবিব বলেন, ‘আমাকে এখন বহিষ্কার করার বিষয়টি হাস্যকর, কারণ আমি দলে নেই।’
হাবিবুর রহমান জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি এলাকার মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চান। সব ধরনের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। ‘৫ আগস্টের পর থেকে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার মানুষ মামলা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্কে রয়েছেন। হয়রানির শিকার হয়ে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যাঁরা রাজনীতি করেন, তাঁদের অনেকেই সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন না। কেবল নিজের স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নেন। আমি এলাকার মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চাই, তাঁদের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চাই। সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির লক্ষ্য।’
হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গোপালগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এখানে শায়িত আছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আলেম সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী। তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে আমি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি।’
উল্লেখ্য,হাবিবুর রহমান টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ফুটবল। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগে গত বুধবার হাবিবুর রহমানসহ জেলার তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি। তাঁদের দলে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী ।
মন্তব্য করুন