
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হলে দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশন করে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
‘ক্ষমতায় গেলে দিনাজপুরের মানুষ গ্যাস পাবে, আমরা চাই উত্তরবঙ্গ হোক কৃষি শিল্পের রাজধানী। আধুনিকভাবে চাষ করে উৎপাদন বেশি করা হবে, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে।’ এ সময় দিনাজপুরে উৎপাদিত আম এবং লিচুর জন্য আধুনিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
জামাতে আমির বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি রুখে দেয়া হবে। এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেন একটি শিশু জন্ম নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টির অধিকার পাবে, স্বাস্থ্যের অধিকার পাবে, শিক্ষার অধিকার পাবে, সে বড় হয়ে দেশের জন্য কাজ করবে চাঁদাবাজি হবে না।’
শুক্রবার দুপুরে দিনাজপুর ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ময়দানে জেলার ১০ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি জনসভায় তিনিন এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনি প্রচারে ঢাকা হতে পঞ্চগড়ে আসেন। সেখানে জনসভা শেষে তিনি দিনাজপুর বড়ময়দানের জনসভায় যোগ দেন।
নারী স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা মায়ের জাতি। আমরা তাদের জন্য একসাথে বাড়িতে ও চাকরিতে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলবো। আমরা মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। একটি আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে চাই। টাকা দিয়ে যাতে বিচার কেনা না যায় সেই ব্যবস্থা করবো। যারা জামায়াতের নারীদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান দেখে ভীত সন্ত্রস্ত তারাই বলে জামায়াত নারীদের ঘরে আটকিয়ে রাখতে চায়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে ধর্মে ধর্মে সংঘাত হবে না। বাংলাদেশের টাকা চুরি করে বেগমপাড়া তৈরি করা হবে না। যারা টাকা চুরি করে বেগমপাড়া তৈরি করেছে, তাদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে।
তিনি বলেছেন, উত্তরবঙ্গ হবে কৃষির রাজধানী, কৃষিকে আধুনিকায়ন করা হবে, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সারা বাংলাদেশের খাদ্যের তিন ভাগের এক ভাগ যোগান দেয় দিনাজপুর। এই দিনাজপুরে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। আলু ও লিচুর জন্য সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিভিন্ন জায়গায় ফসল ও সবজির সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে। সারা বছর দেশের মানুষ ন্যায্য দামে কৃষি পণ্যগুলো পাবেন বলেও আশ্বাস দেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে, মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে, পাঁচ বছর সকল শিশু ও ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।’
জামায়াত আমির বলেন, আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলবো।
দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর, সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হকের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
মন্তব্য করুন