
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী গণপরিবহনের উপস্থিতি সীমিত। অধিকাংশ সড়কে স্টপেজে যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকার চিত্র ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ সময় পরপর দুই একটি গণপরিবহন আসলেও সেগুলোতে থাকছে না তিল ধরার ঠাঁই। অনেককে গাড়ির গেটে ঝুলতেও দেখা গেছে। এছাড়াও দূর থেকে গণপরিবহন আসার চিত্র দেখলেই যাত্রীদের গাড়ির দিকে ছুটে যাওয়া ও গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করতেও দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ, প্রেসক্লাব, পল্টন, মতিঝিল, কমলাপুরসহ রাজধানীর বেশিরভাগ সড়ক আজ অনেকটাই ফাঁকা। অন্যান্য কর্মমুখর দিনের তুলনায় আজ জনসাধারণ ও যানবাহনের সংখ্যা কম রয়েছে।
আসাদগেট এলাকায় গাড়ির অপেক্ষায় থাকা জাকির বলেন, বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। সায়েদাবাদ গিয়ে গাড়িতে উঠবো। কিন্তু সায়েদাবাদে যাওয়ার গাড়ি পাচ্ছি না। যে গাড়ি আসছে সেগুলোতেও ওঠার পরিস্থিতি নেই।
রাজধানীর ষ্টাফ কোয়াটার এলাকার বাসিন্দা আকবর মিয়া, দীর্ঘসময় ধরে বাসের অপেক্ষায় থেকে কোনো গাড়ির না পেয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে লেগুনা, ও রিকসা ধরে অফিসের উদ্দেশ্য রওনা হয়েছেন। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো বাসের দেখা নেই। শুনলাম অনেক বাস মালিক নাকি নির্বাচনের প্রচারণার জন্য গাড়ি ভাড়া দিয়ে দিয়েছেন। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের এখন উপায় কী? ভেঙ্গে ভেঙ্গে লেগুনা, ও রিকসায় করে তিন চারটা গাড়ি চেন্স করে অফিসে আসতে হয়েছেে । আমার বাসা ষ্টাফ কোয়াটার থেকে কারওয়ানবাজার এতোদুর সরাসরি রিকসাও যেতে চায় না ।
এদিকে গাড়ি সংকটের কারণ জানতে চাইলে আলিফ পরিবহনের চালকের সহকারী বলেন, নির্বাচনের কারণে অনেকেই বাড়িতে চলে গেছে। আবার অনেকে যাচ্ছেন। তাই দূরপাল্লার গাড়ির সংকট থাকার কারণে অনেক লোকাল গাড়ি ঢাকার বাইরে যাত্রী পরিবহন করছে। আবার অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়া আর মানুষ ঢাকার বাইরে চলে যাওয়ার কারণে অনেক মালিকই তাদের সব গাড়ি রাস্তায় বের করেনি। তাই ঢাকায় গাড়ির সংকট দেখা দিয়েছে।
অনেক বাস মালিক নির্বাচন উপলক্ষে তাদের যানবাহন ব্যক্তিগতভাবে ভাড়ায় দেওয়ায় সাধারণ রুটে বাসের সংখ্যা কমে গেছে।
মন্তব্য করুন