দেশের একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এতে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরাও।
বাংলাদেশ গ্যাস সঙ্কটের প্রধান কারণ উৎপাদন ও আমদানিতে সঙ্কট। তবে চলমান গ্যাস সঙ্কটের পেছনে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের দুর্ঘটনাও দায়ী।
বর্তমনে বাংলাদেশে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দেড় হাজার মিলিয়ন ঘটফুট (এমএমসিএফডি) উত্তোলন করা সম্ভব হয়, আর আমদানি হয় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের মতো।
একটি এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ায় এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সঙ্কট তীব্র লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সম্প্রতি একদিনে লোডশেডিং সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে।
অধ্যাপক ম তামিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘দেশে গ্যাসের উৎপাদন প্রায় ১৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে, যেটা ২০১৬-১৭ সালে ১৯ মিলিয়নের মতো ছিল। এটা দিনে দিনে কমে আসছে।’
গ্যাসের এই সঙ্কট মোকাবেলায় পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স গত ৫/৭ বা ১০ বছরে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যতগুলো উদ্যোগ নিয়েছে তাতে উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে দেখা গেছে যে নেট উৎপাদন কমে যাচ্ছে। প্রতি বছর ১০০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।’
জ্বালানি বিভাগের পরিকল্পনা এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে প্রাথমিক জ্বালানি বিশেষ করে গ্যাস সঙ্কটের দ্রুত সমাধান নেই। তবে দুর্ঘটনাকবলিত এলএনজি টার্মিনাল মেরামত শেষ হলে চলমান তীব্র সঙ্কট কিছুটা কমবে এবং সেটা সরকারও বার বার বলছে।