
অনেকেই ফরজ গোসলের সঠিক পদ্ধতি না জেনে সারা জীবন নাপাক অবস্থায় চলাফেরা করছেন। না জেনে যদি এভাবেই জীবনঘড়ি থেমে যায় কেমন হবে সেই সময়টা একটু চিন্তা করে দেখেন ? একটু না জানা ভুলে সারাজীবনের ইবাদত বরবাদ।
গোসল ফরজ হলে দ্রুত পবিত্রতা অর্জন করা জরুরি। গোসল ফরজ হলে দ্রুত গোসল করা এবং সাধারণ নাপাক লাগলে তা ধুয়ে ফেলা। নাপাক অবস্থায় নামাজ আদায় করা হারাম, তাই নামাজ পড়ার আগে অবশ্যই পবিত্রতা অর্জন করতে হবে । গোসল ফরজ অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা বা পড়া অনুচিত।
শরিয়তের দৃষ্টিতে অপবিত্রতা দুই প্রকার। মানসিক এবং শারীরিক। কুফর থেকে ইসলামে প্রবেশের মাধ্যমে মানসিক অপবিত্রতা দূর হয়। একইভাবে শারীরিক অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ারও নির্ধারিত পদ্ধতি ইসলাম সুস্পষ্ট করে দিয়েছে। তবে ইসলাম শারীরিক অপবিত্রতাকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে।
যে ধরনের অপবিত্রতা থেকে অজু করেই পবিত্র হওয়া যায়, গোসল আবশ্যক নয় এ ধরনের অপবিত্রতাকে নাজাসাতে খফিফাহ বলা হয়। আর যে ধরনের অপবিত্রতা থেকে গোসল ছাড়া পবিত্র হওয়ার উপায় নেই, ফকিহদের পরিভাষায় তাকে নাজাসাতে গালিজাহ বলে।
পেশাব-পায়খানা ইত্যাদি জাতীয় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য অজু করে নেওয়াই যথেষ্ট। কিন্তু পুরুষ-নারীর এমন কিছু গোপন বিষয় আছে, যেসব কারণে অপবিত্র হলে গোসল না করা পর্যন্ত শরীর পবিত্র হয় না। এ ধরনের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করা ফরজ।
ফরজ গোসল কি দেরি করে করা যায়
১. ফরজ গোসল যথাসম্ভব দ্রুত করে নেওয়া মুসতাহাব বা ভালো, ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়।
২. ফরজ গোসল এত দেরি করে করা উচিত নয় যে, পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ কাজা হয়ে যায়। নামাজ কাজা করা নিঃসন্দেহে কবিরা গোনাহ। ফরজ গোসল করতে না পারার জন্য নামাজ কাজা করার অজুহাত শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয়।
৩. ফরজ গোসল দেরি করেও করা যায়। তবে এক্ষেত্রে সুন্নাত হলো, ভালো করে অজু করে নেওয়া। হজরত আয়শা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) এর গোসল ফরজ হলে তিনি যদি পরে গোসল করতে চাইতেন, কিংবা কিছু খেতে অথবা ঘুমাতে চাইতেন, তাহলে নামাজের অজুর মত অজু করে নিতেন। মুসলিম শরিফ, হাদিস নম্বর ৩০৫।
যে সব কারণে গোসল ফরজ হয়:
১. স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বীর্যপাত হলে।
২. সহবাসে (সহবাসে বীর্যপাত হোক আর নাই হোক)।
৩. মেয়েদের হায়েয-নিফাস শেষ হলে।
৪. নাপাক অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করলে।
গোসলের ফরজ তিনটি:
১. গড়গড়াসহ কুলি করা।
২. নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌঁছানো।
৩. সমস্ত শরীর ধৌত করা।
ফরজ গোসলের নিয়ম
১। নিয়ত: মনে মনে ফরজ গোসলের নিয়ত করুন (মুখে উচ্চারণ জরুরি নয়)।
২। বিসমিল্লাহ: ‘বিসমিল্লাহ’ বলুন।
৩। হাত ধোয়া: দুই হাত কবজি পর্যন্ত তিনবার পরিষ্কার করে ধোয়া।
৪। নাপাকি দূর করা: শরীরের যেখানে নাপাকি আছে, তা ধুয়ে পরিষ্কার করা।
৫। অজু: নামাজের ওজুর মতো অজু করা (তবে পা ধোয়া আপাতত বাকি রাখা যেতে পারে, শেষে ধুলেও চলবে)।
৬। মাথা ধোয়া: তিনবার মাথায় পানি ঢালা, যেন চুলের গোড়া পর্যন্ত ভেজে যায়।
৭। শরীর ধোয়া: প্রথমে ডান কাঁধ, তারপর বাম কাঁধসহ সারা শরীরে পানি ঢালা এবং হাত দিয়ে ঘষে পানি পৌঁছানো, যাতে এক ফোটাও শুকনো না থাকে।
৮। কুলি ও নাক: ভালোভাবে কুলি করা ও নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করা (গোসলের আগে ওজুর সময়)।
৯। পা ধোয়া (যদি বাকি থাকে): অজুর সময় পা না ধুলে, এখন ধোয়া।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
*ফরজ: নিয়ত, কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া, এবং শরীরের কোনো অংশ শুকনো না রাখা।
*সুন্নত: নিয়ত ও বিসমিল্লাহর পরে হাত ধোয়া, অজু করা, তিনবার পানি ঢালা ইত্যাদি।
মন্তব্য করুন