
আমরা শরীর সুস্থ্য রাখতে নিয়মিত গোসল করে থাকি। কিন্তু কিছু বিশেষ প্রয়োজনে আমাদেরকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল ফরজ হয়ে যায় এবং এই গোসলের কিছু নিয়ম-কানুন, দুয়া এবং নিয়ত রয়েছে। আমরা যদি সঠিক নিয়মে গোসল না করি তাহলে যতই গোসল করা হোক না কেন,পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব নয়। কিছু কিছু কারনে নারী পুরুষ উভয়ের উপর গোসল ফরজ হয়ে যায় । তাই আমাদেরকে সঠিক পদ্ধতি জেনে সঠিক নিয়মে গোসল করতে হবে। এমন অবস্থায় সঠিক নিয়মে গোসল না করলে পবিত্রতা অর্জন হবে না।
গোসল ফরজ হলে দ্রুত পবিত্রতা অর্জন করা জরুরি। গোসল ফরজ হলে দ্রুত গোসল করা এবং সাধারণ নাপাক লাগলে তা ধুয়ে ফেলা। নাপাক অবস্থায় নামাজ আদায় করা হারাম, তাই নামাজ পড়ার আগে অবশ্যই পবিত্রতা অর্জন করতে হবে । গোসল ফরজ অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা বা পড়া অনুচিত।
ফরজ গোসলের দোয়
উচ্চারণ- নাওয়াইতুয়ান গোসলা লিরা-ফিল জানাবাতি।
ফরজ গোসলের দোয়া বাংলায়
আমি নাপাকি থেকে পাকপবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করছি।
নারী পুরুষের ফরজ গোসলের নিয়ম মূলত একই, অর্থাৎ শরীর পরিষ্কার করা । তবে ফরজ হওয়ার কারণগুলো নারী ও পুরুষের জন্য ভিন্ন হতে পারে; যেমন পুরুষের স্বপ্নদোষ বা যৌন মিলন এবং নারীর মাসিক বা প্রসব পরবর্তী রক্ত (নেফাস) বন্ধ হলে ফরজ হয়, কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই পুরো শরীর ভেজানো, কুলি করা, নাক পরিষ্কার করা এবং পানির ধারা শরীরের প্রতিটি অংশে পৌঁছানো আবশ্যক।
নারীর ফরজ গোসলের জন্য তিনটি কাজ ফরজ:
১) কুলি করা (মুখে পানি পৌঁছানো)
২) নাকে পানি দেওয়া (নাকের ভেতর পর্যন্ত)
৩) সারা শরীরে পানি পৌঁছানো যাতে কোনো অংশ শুকনো না থাকে;
এর সাথে নিয়ত করা, শরীরের নাপাক দূর করা, এবং < অজু করা সুন্নত, তবে চুল খোঁপা করা থাকলে কষ্ট হলে খোঁপার গোড়ায় পানি পৌঁছানোই যথেষ্ট, না হলে সব চুল ভেজানো আবশ্যক। ফরজ হওয়ার কারণ (উভয়ের জন্য):
যৌন মিলন: পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ (খাতনার স্থান পর্যন্ত) যদি স্ত্রীর যৌনাঙ্গে প্রবেশ করে, তবে বীর্যপাত হোক বা না হোক, উভয়ের জন্য গোসল ফরজ হয়।
বীর্যপাত: ঘুমন্ত বা জাগ্রত অবস্থায় যেকোনো কারণে বীর্যপাত হলে (পুরুষ বা নারী উভয়ের ক্ষেত্রে) গোসল ফরজ হয়।
ফরজ গোসলের কারণ (কখন ফরজ):
১। মাসিক (হায়েজ) বন্ধ হলে।
২। সন্তান প্রসবের পর (নেফাস) রক্ত বন্ধ হলে।
৩। যৌন মিলন করলে।
৪।স্বপ্নদোষ বা অন্য কোনো কারণে বীর্যপাত হলে।
শুধুমাত্র নারীর জন্য ফরজ:
মাসিক (হায়েজ) বন্ধ হওয়ার পর।
সন্তান প্রসবের পর (নেফাস) রক্ত বন্ধ হলে।
গোসলের নিয়ম (উভয়ের জন্য একই):
প্রথমে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ধোয়া।শরীর ও কাপড়ে নাপাকি লাগলে তা ধুয়ে ফেলা।
মুখে পানি দিয়ে কুলকুচি করা এবং নাক পরিষ্কার করা। সারা শরীরে এমনভাবে পানি ঢালা যেন কোনো অংশ শুকনো না থাকে, বিশেষ করে বগলের নিচের লোম এবং শরীরের ভাঁজগুলো পরিষ্কার করা।
সংক্ষেপে, ফরজ হওয়ার কারণ আলাদা হলেও, গোসলের পদ্ধতি একই এবং পবিত্রতা অর্জনের জন্য প্রত্যেককে এই নিয়মগুলো পালন করতে হয়।
ফরজ গোসলের নিয়ম (সাধারণ):
১। নিয়ত: গোসলের নিয়ত করা।
২। বিসমিল্লাহ: ‘বিসমিল্লাহ’ বলে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ধোয়া।
৩। নাপাক দূর করা: শরীরের কোনো অংশে নাপাক লাগলে তা পরিষ্কার করা।
৪। অজু: সাধারণ অজু করা (মুখ ধোয়া, নাক পরিষ্কার করা, হাত-পা ধোয়া, মাথা মাসাহ করা)।
৫। মাথা ও শরীর ধোয়া:প্রথমে মাথায় এমনভাবে পানি ঢালা যেন চুলের গোড়া পর্যন্ত ভিজে যায়। খোঁপা করা থাকলে, তা খুলতে কষ্ট হলে শুধু গোড়ায় পানি পৌঁছানোই যথেষ্ট, না হলে পুরোটা ভেজানো উত্তম।
৬। এরপর শরীরের ডান দিক থেকে বাম দিক পর্যন্ত সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছানো, যাতে কোনো অংশ শুকনো না থাকে (যা ফরজ)।
গুরুত্বপূর্ণ:
গোসলের তিনটি ফরজ—কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং পুরো শরীরে পানি পৌঁছানো—যদি সঠিকভাবে আদায় না হয়, তাহলে গোসল শুদ্ধ হয় না।
যেসব কারণে গোসল ফরজ হয় না
১। যদি কোন রোগের কারণে ধাতু পাতলা হয় কিংবা আঘাত খেয়ে বিনা উত্তেজনায় ধাতু বের হয় তাহলে গোসল ফরজ হবে না।
২। স্বামী স্ত্রী শুধু লিঙ্গ স্পর্শ করে যদি ছেড়ে দেয় কিছু মাত্র ভিতরে প্রবেশ না করায় এবং মুনিও বের হয় না, এ অবস্থায় গোসল ফরজ হবে না।
৩। যদি মযী বের হয় তাহলে ওযু ভঙ্গ হবে কিন্তু গোসল ফরজ হবে না।
৪। ঘুম থেকে ওঠার পর যদি স্বপ্ন স্মরণ থাকে, কিন্তু কাপড়ে বা শরীরে কোন কিছু দেখা না যায় তবে গোসল ফরজ হবে না।
৫। ইস্তেহাযার রক্তের কারণে গোসল ফরজ হয় না।
মন্তব্য করুন