ইসলামী আন্দোলনের শূরায় মতবিরোধ ; আসন নিয়ে অসন্তোষ

আসন ভাগাভাগি নিয়ে চরম অসন্তোষের জেরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
ইসলামপন্থিদের ভোট ‘এক বাক্সে’ আনার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোটে আসন ভাগাভাগির মীমাংসা এখনো হয়নি।
টানা কয়েকদিন বৈঠকের পরও সমঝোতা না হওয়ায় বুধবার সব দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আবার বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার কথা বলেছিল জামায়েত ইসলাম।
তবে সেই সংবাদ সম্মেলন হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছে। এদিন দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিতে দিয়ে এ কথা জানিয়েছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আসন সমঝোতার একটি চূড়ান্ত রূপরেখা পাওয়া যাবে। তবে মঙ্গলবার দিনভর দফায় দফায় বৈঠকের পরও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে নতুন কয়েকটি দল জোটে যুক্ত হওয়া এবং আসন সংখ্যা নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের বিপরীতমুখী অবস্থানেই এই জটিলতা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্ব জামায়াতকে ইঙ্গিত করে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘অ্যালায়েন্সের ভেতর থেকে যদি কেউ একা সিদ্ধান্ত নেয়, তবে অন্য শরিকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।’
তিনি জানান, তাদের নির্বাচনী ফোরামের জরিপ অনুযায়ী তারা ১০০ থেকে ১৩০টি আসনের দাবি রাখে এবং তারা একটি ‘সম্মানজনক’ সংখ্যা প্রত্যাশা করছে।
অন্যদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে দূরত্ব তৈরির খবর অস্বীকার করা হয়েছে। জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘দলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আসনের মধ্যে সমন্বয় করতে আমাদের বারবার কাজ করতে হচ্ছে। এটি কোনো অসন্তোষ নয়; বরং প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে সামঞ্জস্য আনার প্রক্রিয়া মাত্র। শিগগিরই সমন্বিত তালিকা প্রকাশ করা হবে।’
সূত্রমতে, জামায়াতে ইসলামী মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ১৮০ থেকে ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রাখতে চায় এবং বাকিগুলো অন্য শরিকদের ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই সংখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। তারা মনে করছে, তৃণমূলের শক্তিমত্তা অনুযায়ী তাদের আসন সংখ্যা আরও বেশি হওয়া উচিত।
ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসন চাইছে, কিন্তু জামায়াত ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়। এ নিয়ে ইসলামী দল দুটির সমঝোতা আটকে যায়।
জোটের আসন ভাগাভাগির টানাপোড়েন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর বলেন, আশা করা হয়েছিল, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সেটি হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল বৈঠক করে দলের সব স্তরের নেতাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। মাঠের তথ্য নেওয়া হয়েছে, প্রার্থীদের কথা শোনা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আজ তাঁদের মজলিসে আমেলার (দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম) বৈঠক হয়েছিল। যাদের নিয়ে শুরু থেকে পথচলা, তাদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন যোগাযোগ করছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলছেন, জামায়াতকে নিয়ে ‘অবিশ্বাস’ দানা বেঁধেছে।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় পার্টির ভূমিকায় অবতীর্ণ হলে দেশের আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা থেকেই নতুন করে ইসলামন্থি ১১ দলীয় জোটে ‘বিভেদ’ তৈরি হয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রত্যাশিত আসনে ছাড় না পেলে এবং মূলনীতির বিষয়ে একমত না হলে শেষ পর্যন্ত জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।
নির্বাচনী ময়দানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দিলেও আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েনে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ১১ দলীয় জোট। শরিকদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত সময়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছে জোটটি। বড় দুই শরিকের মধ্যে ‘একক সিদ্ধান্ত’ নেয়ার প্রবণতা ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে তৈরি হয়েছে দূরত্ব।

নিজস্ব প্রতিবেদক


