এবার উত্তরাঞ্চলে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

সিলেটের শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত শেষে নির্বাচনি প্রচারভিযান শুরু করার পর এবার নির্বাচনি প্রচারে উত্তরাঞ্চলে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে এবং ২৭ জানুয়ারি ময়মনসিংহ থেকে নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে তিনি সড়কপথে ঢাকা আসেন।
এ পর্যন্ত ১৬টি নির্বাচনি জনসভা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ব্যাপক উপস্থিতির কারণে প্রতিটি সমাবেশে আসতে তার ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। কর্মী-সমর্থকরা গভীর রাত পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারম্যানের অপেক্ষায় বসে ছিলেন।
সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ বিভাগের পর এবার দেশের উত্তরাঞ্চলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রচারাভিযান শুরু হচ্ছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী যাবেন তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে তার তিন দিনের সফর শুরু হবে।
বেলা ২টায় রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠ নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তারেক। এরপর বিকাল সাড়ে ৫টায় নওগাঁর এটিম মাঠে এবং রাত সাড়ে ৭টায় বগুড়ার আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইবেন।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়া সফরে পৈতৃক ভিটা গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে জিয়াবাড়িতেও যাওয়ার কথা রয়েছে তার।
শুক্রবার রংপুরে যাবেন তারেক রহমান। বিকালে তিনটা ৪৫ মিনিটে পীরগঞ্জের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। সাড়ে ৪টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে জনসভায় অংশ নেবেন।
এরপর শনিবার বেলা ২টায় বিসিক শিল্প পার্কে, ৪টায় ঢাকা –টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
এই সফরে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিন বগুড়ায় চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপন করবেন তারেক রহমান।
এই কদিনের প্রচারাভিযানে তারেক রহমানকে অনেকেই কাছ থেকে দেখেছেন, শুনেছেন তার বক্তব্য।
এক সংকটময় মুহূর্তে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে বিএনপির হাল ধরা তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রচার সম্পর্কে মূল্যায়ন উঠে এল বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কথায়।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কানিজ ফাতিমা বলেন, “এবার বিএনপির নির্বাচনি প্রচারে মূল শক্তি তারেক রহমান। ১৭ বছর দেশের বাইরে নির্বাসিত ছিলেন, পুরো পরিবারসহ।
“ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি প্রচারে তারেক রহমানের বক্তব্য আমাকে অভিভূত করেছে। কারণ তিনি যাদের উদ্দেশে কথা বলতে এসেছেন, তাদের কাছে থেকে সমস্যাগুলো শুনেছেন আর সমাধান কীভাবে হতে পারে তার পথরেখা জানতে চেয়েছেন তাদের কাছেই। আপনিই বলুন, অতীতে এরকম কোনো পলিটিশিয়ান কী মানুষকে সেভাবে বিবেচনা করেছেন? করেন নাই। ইট ইজ ইউনিক।”
তারেক রহমান ঢাকায় তার নির্বাচনি এলাকার ভাষানটেকে জনসভায় বক্তব্য রাখেন ২৩ জানুয়ারি।
চট্টগ্রামের হালিশহরের কলেজ শিক্ষার্থী তাবাসুম আহমেদ বলেন, “তারেক রহমানের বক্তৃতা দেওয়ার ধরন, তার বক্তব্যের বিষয়বস্তু গতানুগতিক ধারার বাইরে বলে আমার মনে হয়েছে। এটা আমার মতো সাধারণ ভোটার, যারা কোনো দলের সমর্থক নই তারা গ্রহণ করছে।”
মঞ্চে মাইক হাতে হেঁটে হেঁটে বক্তব্য দেওয়া, মঞ্চে ডেকে সমাবেশে আসা লোকজনকে মঞ্চে ডেকে কথা বলা- পারস্পরিক আদানপ্রদানের তারেক রহমানের যে ধরন, তাও মানুষের চোখে পড়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেল তারেক রহমানে কর্মসূচিগুলো সরাসরি প্রচার করছে।
এসব সমাবেশের আগে তরুণদের সঙ্গেও আলাদাভাবে বসছেন তিনি।
‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শিরোনামের এই আয়োজনে তরুণদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তারেক। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নে জবাব দেন তিনি।
নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে ২৯ জানুয়ারি রাজশাহী সফরের পর উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ঘুরে সর্বশেষ ৩১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল সফরে আসবেন তারেক রহমান। সফরের দিন দুপুর ২টায় জেলা বিএনপির আয়োজনে দরুন বাইপাস এলাকায় অনুষ্ঠিত জনসভায় তার বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে। তার আগমনকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক


