আজ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিনে সারাদেশে ২৯৮ আসনে ৩০৫ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এতে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়ালো ১ হাজার ৯৬৭ জনে। আজ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে আজ প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে দেশের প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ভিন্ন ব্যালটে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
আজ (২১ জানুয়ারি) বুধবার প্রতীক পাওয়ার পর আগামীকাল (২২ জানুয়ারি)বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন। ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষে সারা দেশে ৩০৫ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে ২৯৮টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী।
এবারের নির্বাচনে কোনো আসনেই একক প্রার্থী নেই। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। অন্যদিকে কয়েকটি আসনে সর্বনিম্ন দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে সারাদেশে ২৯৮ আসনে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এতে করে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬৭ জনে। আজ সারাদেশের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকেই প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। বাড়ি বাড়ি প্রচারণার মাধ্যমে তাঁরা তুলে ধরবেন নিজেদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, কর্মপরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে আয়োজিত এই নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রয়েছেন ২৮৮ আসনে। সাতটি আসনে শরিক দলের জন্য প্রার্থী দেয়নি দলটি। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-২, কুমিল্লা-৪ ও কুমিল্লা-১০—এই তিনটি আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কয়েকটি আসনের প্রার্থী বাদ পড়েছেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রয়েছেন ২২৫ আসনে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী রয়েছে ২৫৯ আসনে। জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে লড়ছে ১৯৬ আসনে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ইসির নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, যার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।
সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত আদালতের আদেশের কারণে পুনঃতফসিল হওয়া পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের প্রার্থী তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ভোটের দিন অপরিবর্তিত রেখে এসব আসনে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।
আগের তফসিল অনুযায়ী বৈধ হওয়া ১১ জন প্রার্থী এই তালিকা থেকে বাদ পড়বেন। ভোটের দিন অপরিবর্তিত রেখে এ দুটি আসনে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এতে পাবনা-১ আসনে সাতটি এবং পাবনা-২ আসনে পাঁচটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “প্রার্থীরা চূড়ান্ত হয়ে গেছে, আজ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এখন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে দল ও প্রার্থী—সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, আগাম প্রচার বন্ধে ইতোমধ্যে কয়েকটি দলকে সতর্ক করা হয়েছে।
নির্বাচনের মাঠে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আজ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ বৈঠকে আচরণবিধি প্রতিপালনে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে ভোট সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। নির্বাচনী পরিবেশ সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করবে বলে জানিয়েছে ইসি।
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে আজই—কাল বৃহস্পতিবার থেকে পুরো দেশজুড়ে জমে উঠবে ভোটের মাঠ।
ইসির রোডম্যাপ অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক


