এলপিজির বাজারে অরাজকতা বিক্রি হচ্ছে দেড় গুণের বেশি দামে, নতুন মূল্য আগামীকাল

এলপিজি বাজার সাড়ে বারোশো টাকার গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে দেড় গুণে বেশি দামে সরবরাহ স্বল্পতার অজুহাত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা । কোম্পানিগুলো বলছে বিশ্ববাজারে জাহাজ সংকটের কারণে আমদানিতে পড়ছে প্রভাব। অবশ্য এমন দর বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক আখ্যা দিচ্ছে কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ ক্যাপ । অভিযোগ সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বাজারে অস্থিতিশীল করছে সিন্ডিকেট ।
বনশ্রীর বাসিন্দা সনিয়া বেগম বলছেন, ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছিলেন ১৪৫০ টাকায় নতুন বছর শুরুতে সেই একই সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে হাকা হচ্ছে ২000 টাকা দাম । বড় পরিবার আমাদের মাসে দুটো করে সিলিন্ডার লাগে যেহেতু ৫৫০ টাকার মতন বেড়ে গেছে । এই বাড়তি খরচে আমাদের সংসার খরচ সামলাতে অনেকটা মুশকিল হবে।
সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আই গ্যাস, ফ্রেশ, পেট্রো ম্যাক্স, ইউনিক, ওমেরা, যমুনা, ওরিয়ন, নাভানা, বসুন্ধরা, ইনডেক্স, টোটাল গেজ ও জেএমআইসহ বিভিন্ন কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ডেমরা ও আশপাশের এলাকায় পাইকারি ও খুচরা মিলিয়ে প্রায় দুই শতাধিক দোকান থাকলেও সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক দোকানে বর্তমানে এলপিজি গ্যাস মিলছে না। ভোক্তারা জানান, বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে আগেও অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে কিনতে হতো কিন্তু এবার মূল্যবৃদ্ধির মাত্রা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ভোক্তা পর্যায়ে সাড়ে ৫ কেজি থেকে শুরু করে ৩৫ কেজি পর্যন্ত সিলিন্ডার গ্যাস নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন নির্ধারিত দামি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার হওয়ার কথা ১২৫৩ টাকা অথচ সেই দাবি মিলছে না কোথাও । ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার স্থান ভেদে এখন ১৮০০ থেকে ২১০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে । দেশে এলপিজির আশি শতাংশ ব্যবহার হয় গৃহস্থালির কাজে তাই হুট করে সিলিন্ডার প্রতি ৫ থেকে ৮০০ টাকা বৃদ্ধিতে বিপাকে সাধারণ মানুষ
ব্যবসায়ীরা বলেন, শীত মৌসুমে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিলিন্ডার গ্যাসের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই অনুপাতে কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত সরবরাহ দিচ্ছে না। ডেমরার ব্যবসায়ী মো. কমল হাসান বলেন, গত ২ ডিসেম্বরেও তিনি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ১ হাজার ২৫৫ টাকায় বিক্রি করেছেন। এরপর হঠাৎ করেই দাম বাড়তে শুরু করে। গতকাল ছিলো ১ হাজার ৮০০ টাকায়, আজ সেটা বেড়ে ২ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। ৩৫ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ২০০ টাকার বদলে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ এত কম যে এখন অনেকেই গ্যাস রাখা বন্ধ করে দিয়েছে, বলেন তিনি। তার দাবি, ডিলার পর্যায়ে সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
আমদানি কারক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি যা সংকটেই বড় প্রভাব পড়ছে এই খাতে তার উপর সম্প্রতি এলপিজি পরিবাহী বেশ কিছু জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পড়ায় বিশ্ববাজারে পরিবহন খরচ বেড়েছে বেরে গেছে ।
ক্যাপ বলছে সেন্ডিকেটের কবলে পড়েছে এলপিজি খাত। এই অরাজকতার জন্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করছে সংগঠনটি । বিআরসি এলপিজি ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি নিয়ে মূল্য নির্ধারণ করে এর পরিণতি তো এরকম হবেই এমন দাবি অনেকের । যার জন্যই মার্কেট সিন্ডিকেটের কবোলে পড়েছে এলপিজি খাত।
চলতি মাসের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন মূল্য আগামীকাল রবিবার (৪ জানুয়ারি) জানানো হবে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সৌদি আরামকো ঘোষিত জানুয়ারি (২০২৬) মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী, এই মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা রবিবার বিকেল ৩টায় ঘোষণা করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক


