গুম-খুন, জুলাইয়ে শহীদ ও আহত পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৭৪ সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছে সরকার।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, আজকে আমরা গুম-খুন শিকার এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ৭৪ জনকে চাকুরি নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে ১০ জনের হাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নিয়োগপত্র তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও এসব পরিবারের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার। তাঁদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তারপরও সরকার তাঁদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
আবেগঘন কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই।’
তিনি বলেন, এসব মানুষের মহান ত্যাগের বিনিময়েই দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে। যারা আজও নিখোঁজ, তারা কোথায় কী অবস্থায় আছেন, তা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। তাঁদের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি।
গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই অভ্যর্থানে শহীদ পরিবারের ৭৪ জনকে চাকুরির নিয়োগপত্র প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৯ আগষ্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে করবী হলে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই নিয়োগপত্র তুলে দেন।
চাকুরির নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন- গুমের শিকার ইফতেখার আহমেদ দিনারের ভাই ইশফাক আহমেদ, নুরুজ্জামান জনির ভাই মনিরুজ্জামান হীরা, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের ভাই আনান হোসেন নূর, সেলিম রেজা পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা এবং খালেদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা।
জুলাই অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা দৃষ্টিশক্তি হীন আলাল আহমেদ, শহীদ আলভীর বাবা মো. আবুল হোসাইন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, আহত যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এবং ইসরাফিল ইসলামের ভাই মাহবুব আলম প্রমূখের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়োগপত্র তুলে দেন।
নিয়োগ পাওয়া জুলাই অভ্যুত্থান ও গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ইশফাক আহমেদ, শাম্মী সুলতানা, আলাল আহমেদ, শহীদ আনভীর বাবা মমতাজ হোসেন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, জুলাই যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এই নিয়োগপত্র প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা গুম-খুনের সাথে জড়িতদের দোষীদের বিচার দাবি জানান।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব আন্দোলনের শহীদ, গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।

নিজস্ব প্রতিবেদক


