মেয়ের সহপাঠীকে ধর্ষণের পর হত্যা; চেনা ঘরেও অনিরাপদ শিশু । অভিযুক্ত : পুলিশ

চেনা ঘরেও অনিরাপদ নারী ও শিশু: পৈশাচিকতার চরম সীমায় সমাজ, বিচারহীনতায় বেপরোয়া অপরাধীরা
একটি কন্যাশিশুর মুখে হাসিতেই ফুটে উঠে একটি পরিবারের স্বপ্ন। মা বাবার পরম যত্নে বড় করা সেই শিশুটি কিংবা কিশোরী যখন ধর্ষণ, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার হয়, তখন শুধু একটি পরিবার নয়—ক্ষতবিক্ষত হয় পুরো সমাজ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের যেসব ভয়াবহ ঘটনা সামনে আসছে, তা মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ঘরের ভেতর, রাস্তায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিংবা ডিজিটাল মাধ্যমে—কোথাও যেন নিরাপদ নয় নারী ও শিশুরা। যে সমাজে একটি কন্যাশিশুর স্কুলে যাওয়া পর্যন্ত নিরাপদ নয়, যে সমাজে একটি শিশু পাশের বাসার ‘চাচা’, শিক্ষক, প্রতিবেশী কিংবা আপনজনের কাছেও নিরাপদ নয়—সেই সমাজ আসলে কতটা সভ্য?
বিদ্যালয়ের পাশেই সহপাঠীর বাড়ি। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় থেকে সহপাঠীকে খুঁজতে তাদের বাড়িতে যায় সাত বছরের শিশুটি। তবে সহপাঠীর বাবা জামিনুর ইসলাম (৩২) ছাড়া বাড়িতে আর কেউ ছিল না। এ সুযোগে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। পরে নিজের ঘরের মেঝেতে গর্ত করে চাপা দেওয়া হয় শিশুটির মরদেহ।
শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। গত শনিবার রাতে জামিনুরের বসতঘরের মেঝেতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জামিনুরের মেয়ের সহপাঠী ছিল শিশুটি। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে এবং বিদ্যালয় থেকে জামিনুরের বাড়িতে গিয়ে তার মেয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করত শিশুটি। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় থেকে শিশুটি জামিনুরের বাড়িতে যায়। সেদিন জামিনুরের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তাঁর বোনের বাড়িতে রান্না করতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে জামিনুর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ঘরের মেঝেতে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার এমন লোমহর্ষক বর্ণনাই দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম।

নিজস্ব প্রতিবেদক


