পাশাপাশি খোঁড়া হচ্ছে ৩ জনের কবর ; উত্তরায় আগুনে দুই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু

রাজধানী উত্তরার ১১ নং সেক্টরের ৭ তলা আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। বাবা ও ছেলেসহ একই পরিবারের তিনজনের জন্য পাশাপাশি খোঁড়া হচ্ছে কবর। এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোক-স্তব্ধতা।
নিহতরা হলেন- উপজেলার সদর ইউনিয়নের দড়িপাঁচাশি গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. হারিছ উদ্দিন (৫২), তার ছেলে হিসান উদ্দিন রাহাব (১৭) এবং ভাতিজি রোদেলা (১৪)।
নিহত রোদেলা হারিছ উদ্দিনের ছোটভাই শহীদুল ইসলামের মেয়ে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, হারিছ উদ্দিন ও শহীদুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে একসঙ্গে রাজধানীর উত্তরায় ফলের ব্যবসা করে আসছিলেন। ব্যবসার সুবাদে হারিছ উদ্দিনের স্ত্রী ও দুই ছেলে এবং শহীদুল ইসলামের স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তারা উত্তরার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
এ ঘটনায় শহীদুল ইসলাম, তার স্ত্রী শিউলী আক্তার এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে উমর উদ্দিন গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে ওই ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৬ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় ফায়ার সার্ভিস। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
বাকি তিনজন হলেন- কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়ের কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২)।
বিকালে ঈশ্বরগঞ্জের দড়িপাঁচাশি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একসঙ্গে তিনজনের দাফনের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি খোঁড়া হচ্ছে তিনটি কবর।
বাবা-ছেলেসহ একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। মরদেহ বাড়িতে এসে না পৌঁছালেও দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা বাড়িতে ভিড় করছেন।
প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা নিহতদের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন। রাত ১০টায় জানাজা শেষে বাবা-ছেলেসহ তিনজনকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
নিহতের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, “হারিছ উদ্দিন খুব ভালো ছেলে ছিলেন। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কল্পনাও করতে পারিনি। বাবা-ছেলেসহ একসঙ্গে তিনজন মারা যাওয়ায় পরিবারটির অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।”
স্থানীয় বাসিন্দা রবিন হোসেন বলেন, এ ঘটনায় পুরো গ্রাম যেন মুহূর্তেই শোকস্তব্ধ হয়ে গেছে।
ইউপি সদস্য আতিকুল ইসলাম পিয়াস বলেন, “একসঙ্গে বাবা-ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যু আমাদের পুরো ইউনিয়নকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
সুত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক


